ঢাকা টু মৈনটঘাট : স্বপ্নের মিনি কক্সবাজার

শুরুতে কী হৈলো… ?

আমাদের গন্তব্য মিনি কক্সবাজার।
সবাই জড়ো হয়েছি গোলাপশাহ’র মাঝারের কাছে। আগের ট্যুরে আমি আর তিমি নতুন ছিলাম। তাই সব মুখই ছিলো নতুন। কিন্তু এবার অনেককেই চিনতে পারছি। অনেকের জন্যই অপেক্ষা করছি- যাদেরকে আগের ট্যুরে দেখেছিলাম।

মায়াদ্বীপের ট্যুরের যাত্রা পূর্বনির্ধারিত ঠিক ৮.৩০ মিনিটেই শুরু হয়েছিলো। তাই এবার ভয়ে ভয়ে আমি আর তিম আটটার মধ্যেই নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছে গেলাম। কিন্তু বিধিবাম। আমাদের যাত্রা প্রায় এক ঘণ্টা লেট হলো নানা কারণে। সে কথা থাক। যা পেয়েছি তারতো নাই সীমা।

এন মল্লিক পরিবহনে (মাহমুদ ভাইয়ের ভাষায় “টিভিওয়ালা গাড়ি” 😀 ) চড়ে বসেছি আমরা। শুরুতে চলে এলো ঢাকাইয়া গরম গরম ভুনা খিচুরি। আহ! সে কি স্বাদ!! যেনো অমৃত! (থুক্কু, অমৃত না মনে হয়। আচ্ছা কেউ বলতে পারেন, অমৃত জিনিসটা আসলে ঝাল নাকি মিষ্টি? 😉 )। ভুনাখিচুড়ি শেষে এলো পাঁচ রকমের পিঠা। সেও কম মজার নয়।

তারপরেতে কী হৈলো…?
কলাকোপাতে গিয়ে যখন আমাদের গাড়ি পৌঁছলো তখন ঘড়ির কাটা এগারোটা পার হয়ে গেছে। যেখানে নামলাম; ছোট্ট একটা কালভার্ট। পাথরে খোদাই করে লেখা আছে- হাড় ভাঙ্গা কলাকোপা ব্রিজ। সেখান থেকে হেঁটে আমরা দেখতে গেলাম এক জমিদার বাড়ি। কী যেনো নাম #মাহমুদ ভাই? জমিদার বাড়ি সংস্কার করা হচ্ছে। এটা দেখেই সবাই মুগ্ধ। অনেকেই এর আগে আমরা হয়তো দেখিনি কীভাবে পুরনো স্থাপনা নতুন করে মেরামত করা হয়। ফলে আমরা সবাই উপভোগ করেছি বলা যায়।

তারপরেতে কী হৈলো…?

হেঁটে হেঁটে আর জমিদার বাড়ি। সেখানে গ্রুপ ফটো তোলা হলো। ফটো তোলা শেষে হেঁটে আর একটু সামনে গিয়ে বিরতি দেয়া হলো যাত্রার। এখানে খাওয়া হলো ডালপুরি আর আলু পুরি। সাথে বুটের ডাল। এবং সিঙ্গারা এবং পেঁয়াজ, টমেটো। সবশেষে চা।

তারপরে আনসার ক্যাম্প

বিরতি শেষে নদীর পাড় ধরে আবারও হাঁটা। কালের ধুলোয় লুটিয়ে পড়া আরও এক জমিদার বাড়ির দেখার পর আমরা হেঁটে চললাম আনসার ক্যাম্পের ঐদিকে ডানপাশে মৃতপ্রায় এক নদী।

মিনি নয়, মাইক্রো কক্সবাজার
আনসার ক্যাম্পের কাছাকাছি এসে নদী দেখে সবাই মুগ্ধ। কক্সবাজারের মতো বসার জায়গা, দোকানপাট ইত্যাদি। নদীর টলটলা পানি, বালুভর্তি নদীকত (সৈকত না, নদীকত… 😛 )।
হৈ হৈ করে সবাই নেমে পড়লো নদীকতে। এই যে আমাদের “মিনি কক্সবাজার” বলে। মিটি মিটি করে হেসে আমাদের মাহমুদ ভাই জানালেন, আরে আরে এটা নয়, এটার কথা বলিনি। এটাতো মাইক্রো কক্সাবাজার। মিনি কক্সাবাজার আরও সামনে।

সুতরাং সবাইকে নিয়ে আনসার ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে আমরা হেঁটে চললাম আরও সামনে। ইয়েস, এবার যে জমিদার বাড়ি দেখলাম সেটার নাম স্পষ্ট মনে আছে- কোকিলপ্যারি জমিদার বাড়ি।

অসাধারণ এক বাড়ির নাম উকিল বাড়ি
আরও হেঁটে সামনে এগিয়ে গেলাম আমরা। মেইন রাস্তা থেকে দেখা যায় পুকুরটা। এতো চমৎকার! মুগ্ধ না হয়ে কোনো উপায় নেই। আপনার মন ভালো করে দেয়ার জন্য চমৎকার একটা দৃশ্য। আপনার ভালো লাগবেই। আর আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য। বাড়ির নাম উকিল বাড়ি। কোকিলপ্যারি জমিদার বাড়ির আদলে তৈরি এই বাড়ির স্থাপত্য নকঁশা, বাগান, পুকুর, পুকুরঘাট ইত্যাদি দেখে কে না মুগ্ধ হবে! উফ! কী অসাধারণ!!

মুগ্ধ হলাম জজবাড়ি দেখেও…
আমাদের মুগ্ধতা সীমাবদ্ধ রইলো না উকিলবাড়ি লাগোয়া বাড়িটি দেখেও। পুরনো যারা এদিকে, তারা টিপ্পনি কেটে বললেন- উকিলবাড়ি দেখলেন, জজবাড়ি দেখবেন না? সুতরাং জজবাড়িও আমরা দেখলাম। এবং সমান মুগ্ধ হলাম। এখানে মুগ্ধতার পরিমান আরও বাড়লো হরিণ এবং বাড়ির পেছনের বাগান দেখে। উকিলবাড়ির আদলে তৈরি করা এই বাড়িটিও তৈরি।

উহ! ক্ষিধা লাগছে…!!
একদিনের ট্যুরে এতোকিছু দেখে এতোক্ষণে সবাই-ই ভাবছে- আজকে তবে আরও দেখার আছে? আরও? আর কত? কিন্তু সবার মুখেই হাসি। ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত সবাই, কিন্তু কারও মুখই অন্ধকার নয়। কিন্তু দুপুরের খাবার সময় যে পার হয়ে যাচ্ছে… সুতরাং খেতে হবেই। খাবারও রেডি। মাহমুদ ভাইয়ের সব কাজই পাকা, নিখুঁত, সুন্দর। সাথে আছেন পলাশ ভাই, নিজাম ভাই, সজিব ভাই আর নাম না জানা কত কত ভাই! সুতরাং কারও সমস্যা হচ্ছিলো না কিছুতেই।
জজবাড়ি থেকে বের হয়ে বাসে চড়ে দুই কিলোমিটার দূরে খাবারের ব্যবস্থা। গরম ভাত, বেগুন ভর্তা, আলু ভর্তা, টমেটুর চাটনি, মুরগির ঝাল মাংস, ডাল। আহ! সে কি অসাধারণ খাবার!!

মিনি নয়, বড় কক্সবাজার…
ওয়াও! আমরাতো কক্সবাজার চইলা আসছি। বলে চিল্লানি দিলেন আমাদের পাশের এক আপু। তখন পশ্চিমাকাশে হেলে গেছে সূর্য। লাল টকটকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুব দেবে সূর্যদেবি। সামনে বিশাল জলরাশি। অথৈ পনি… নাহ, আমি কবি নই যে বাক্যের মালা গেঁথে বর্ণনা করবো। বর্ণনার অতীত দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি মৈনটঘাট এসে। এ যেনো মিনি কক্সবাজার নয়, সত্যি সত্যি কক্সবাজার।

নৌকা ভ্রমণ! নৌকা ভ্রমণ!!
নদীর নাম পদ্মা। আমরা অনেকেই এর আগে পদ্মা নদী দেখিনি। দেখে ভালো লাগলো। এপাড়ে ঢাকা, ঐপাড়ে ফরিদপুর। ঘাটের নাম মৈনটঘাট। কক্সবাজারের মতোই বালুময় নদীকত (সৈকতের মতোই হুবহু)। বালির রাস্তা পেরিয়ে নদীর পাড়ে গেলেই মনে হয় সাগর সৈকতে চলে এসেছি আমরা। আহা, সাগরের ঢেউয়ের মতোই আছড়ে পড়ছে ঢেউ… ঢেউয়ের পর ঢেউ।

এরই মাঝে একজন বললো- নৌকা ভ্রমণ হবে না? ঐতো শুরু হলো সবার মাঝেই উত্তেজনা। মায়াদ্বীপের নৌকাভ্রমণের আনন্দ স্মৃতি আমরা ভুলতে পারছি না এখনো। সুতরাং সবাই গিয়ে ধরা হলো মাহমুদ ভাইকে। ভাই নৌকায় ঘুরতে হবে। কিন্তু আজকের এতো আয়োজনের পর মাহমুদ ভাইতো তলানিতে গিয়ে পড়ছেন। সুতরাং সবাই নিজে থেকেই অফার করলো নৌকা ভ্রমণের জন্য সবাই মিলেই নৌকা ভাড়া দেবে। এমনকি কয়েকজন এতো এতো উত্তেজিত যে পার হেড একশ’ টাকা করে দিতেও রাজি নৌকা ভ্রমণ করতে। কিন্তু না, দিলদরিয়া মাহমুদ ভাই আমাদের কাছ থেকে নিলে শুধুমাত্র ২০ টাকা করেই। বাকীটা উনার পকেট থেকেই গেলো।

নৌকা ভ্রমণ শেষে ষোলকলা নয়, বত্রিশ কলা পূর্ণ ভ্রমণের। সত্যিই মনোরম আর আনন্দময় ছিলো ২৪ জানুয়রি’র ডে ট্যুর টা- ঢাকা টু মৈনটঘাট : স্বপ্নের মিনি কক্সবাজার।

ক্লিক! ক্লিক!! ক্লিক!!!

একটা ব্যাপার লক্ষ্যণীয়- এই ট্যুরে এতো এতো ফটোগ্রাফার ছিলেন যে, সত্যিই চমৎকার একটা ব্যাপার। অনেকেই অনেক ছবি তুলেছেন। ছবি তুলতে গিয়ে চমৎকার অভিজ্ঞতা, হাসি-তামাশা হয়েছে। আপনারা কিছু মনে করেন নাইতো? ফটোগ্রাফার ভাই এবং আপুরা, আমাদের ছবি কোথায়? তাড়াতাড়ি দেন কইলাম!

এখানে দেখুন আমার মিনি ক্যামেরায় তোলা কিছু ফটো। ছবিগুলো তুলেছি তিমি এবং আমি। সুতরাং ফটোক্রেডিট দু’জনেরই।


ভালো লাগে জীবন আর ভালো লাগে জীবন আর ভালো লাগে জীবন। খুব ইচ্ছে একদিন পৃথিবীর পরিধি পরিভ্রমণ করে ফিরে আসি আমার এই সোনার দেশে। হয়তো কোনো একদিন বেরিয়ে পড়বো...

Share This Post

Related Articles

Leave a Reply


© 2018 Vromon Blog. All rights reserved. Site Admin · Entries RSS · Comments RSS
Hosted by The Save Host · Designed by Prism IT

Facebook

Get the Facebook Likebox Slider Pro for WordPress